1. reporter1@dainikbijoyerbarta.com : reporter1 :
  2. admin@dainikbijoyerbarta.com : unikbd :
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পটুয়াখালীতে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে ১০টি হুইলচেয়ার অনুদান: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পাশে প্রবাসী ৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও গ্রেপ্তার নেই, উল্লাপাড়ায় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ সুস্থতার জন্য দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি, সাবেক পৌর কমিসনার মোঃ আমিনুল ইসলাম স্বপন সুস্থতার জন্য দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি, সাবেক পৌর কমিসনার মোঃ আমিনুল ইসলাম স্বপন পটুয়াখাতে কিস্তি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ। ‎ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী জাতীয়ভাবে উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা সিলেট চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যো‌গে বাংলা নববর্ষ উৎযাপন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত খেলাধুলায় মনোযোগী শিশুদের বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব: নান্দাইলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী টাকার অভাবে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারেনি শিক্ষার্থী মাহিন অভিযোগ স্কুলের বিরুদ্ধে ট্রাক শ্রমিককে কুপিয়ে জখম: বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

জালিয়াতির দায়ে কারাবন্দি আ লীগ নেতার মৃত্যু নেপথ্যে শিক্ষক নিবন্ধনের ভুয়া সনদ

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

জালিয়াতির দায়ে কারাবন্দি আ.লীগ নেতার মৃত্যু: নেপথ্যে শিক্ষক নিবন্ধনের ভুয়া সনদ

মোছা. পারভীন আক্তার
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি।

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতি ও অবৈধভাবে নিয়োগ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন জামালপুর সদরের হরিদ্রা আটা এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মো. জিয়াউল হক। তবে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. জিয়াউল হক এবং মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম নামের দুই ব্যক্তির শিক্ষক নিবন্ধন সনদ নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত চালায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA)। তদন্তে দেখা যায়, তারা ২০১১ সালের ৭ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যে সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তার সঙ্গে এনটিআরসিএ-র মূল ডাটাবেজের তথ্যের কোনো মিল নেই।
তদন্তে প্রাপ্ত মূল অসঙ্গতিগুলো হলো:
রোল ও রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি: তাদের ব্যবহৃত রোল নম্বর (৩০৮০৫৮৯৯) এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর (২০১১১০১২৪০৪৫) অন্য এক ব্যক্তির তথ্যের সঙ্গে মিলে যায় অথবা ডাটাবেজে ভিন্ন নাম প্রদর্শিত হয়।
তথ্য জালিয়াতি: অন্যের অর্জিত ফলাফল জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নামে ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাগিয়ে নিয়েছিলেন।
জবাবদিহিতায় ব্যর্থতা: এনটিআরসিএ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো সন্তোষজনক প্রমাণ বা বৈধ নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

এই জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জিয়াউল হক কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। তবে তার পরিবার ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে সাবেক সরকার প্রধানের কাছে একে ‘বিএনপি সরকারের মিথ্যা মামলা’ হিসেবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জিয়াউল হক মাস্টার বলেন:
“মরহুম জিয়াউল হক একটি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন। এখানে বিএনপির কোনো হাত নেই। একটি আইনি প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক রং দেওয়া অনভিপ্রেত।”

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ আহমেদ ফরিদ জানান:
“জিয়াউল হক দীর্ঘদিন দিগপাইত ধরণী কান্ত উচ্চ বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি থাকাকালীন নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ করেন। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ১৪-০২-২০২৩ তারিখে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। এখন তার পরিবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”

ভুয়া সনদে চাকরি করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিস আগেই তার এমপিও (MPO) সুবিধা স্থগিত করে। জালিয়াতি মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় জিয়াউল হক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরসহ সারা দেশে ভুয়া সনদে নিয়োগপ্রাপ্তদের শনাক্ত করতে একটি বিশেষ ‘শুদ্ধি অভিযান’ চলছে। এনটিআরসিএ জানিয়েছে, জালিয়াতি করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পর্যায়ক্রমে সকল ভুয়া সনদধারীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
2026 © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD