
টাকার অভাবে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারেনি শিক্ষার্থী মাহিন, অভিযোগ স্কুলের বিরুদ্ধে
মোঃজসিম উদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর গলাচিপায় অর্থাভাবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাহিন। পরিবারের অভিযোগ, নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় ফরম পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
মাহিনের মা জানান, ফরম ফিলাপের জন্য তিনি স্কুলের শিক্ষক বুলবুল মিয়ার কাছে ৩ হাজার টাকা নিয়ে গেলে তার কাছে ৫৫০০ টাকা দাবি করা হয়। এই অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় তার ছেলের ফরম ফিলাপ করা হয়নি। আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানালেও স্কুল কর্তৃপক্ষ, এমনকি প্রধান শিক্ষকও বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারি তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ ফি বিভাগভেদে প্রায় ২৩১৫ থেকে ২৪৩৫ টাকার মধ্যে নির্ধারিত রয়েছে । তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার দুপুর ১২ টায় গলাচিপা গার্লস স্কুল রোডে জনৈক দোলোয়ার মিয়ার বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক (প্রায় ৫টি ধাপে) পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাত্র একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরে হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান অভ্যন্তরীণ টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও বোর্ডে ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে বলে অভিযোগ করেন তার মা নার্গিস বেগম। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের স্বাক্ষরের ফরেনসিক তদন্ত দাবি করেন।
এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে মাহিন। তার মা বলেন, “আমার ছেলে এখন গভীর রাতে বাসায় ফেরে, সারাদিন প্রলাপ বকে। আমি মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালাই। এই ছেলেটাই আমার একমাত্র সম্বল। যদি ওর কিছু হয়ে যায়, দায় কে নেবে?”
তিনি আরও বলেন, “গরিব হয়ে জন্ম নেওয়াটাই কি আমাদের অপরাধ?” ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিপি বেগম জানান, ফরম ফিলাপের সময় তিনি উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আব্দুর রব বুলবুলের হাতে ৩ হাজার টাকা দেন। কিন্তু তিনি জানান, এই টাকায় ফরম ফিলাপ সম্ভব নয়, ৫ হাজার ৫৫০ টাকা লাগবে। পরে তিনি আরও সময় চাইলেও ফরম ফিলাপের সুযোগ পাননি। এমনকি লেট ফি দিয়েও ফরম পূরণ করা যাবে জেনেও শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেননি।
লিপি বেগম আরও অভিযোগ করেন, বহুবার অনুরোধ করার পরও তার ছেলের ফরম ফিলাপ করা হয়নি। এতে তার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাফুজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা বিষয়টি বোর্ডকে জানিয়েছি। তারা অনৈতিকভাবে লেনদেন করে ফরম পূরণ করেছে। আমাদের সার্ভার থেকে এটি করা হয়নি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ফরম ফিলাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রব বুলবুল বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তারা আমার কাছে ফরম ফিলাপের জন্য আসেনি।”