
এনামুল হক, উল্লাপাড়া( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরে সড়ক ইজারা ও যানবাহন থেকে পার্কিং ফি (রোড ড্যামেজ) আদায়কে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন সড়ক ইজারা দেওয়ার অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও উল্লাপাড়া পৌরসভাকে নিয়ে জনমনে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া পৌরসভা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ইজারা দেওয়া হয়। বর্তমানে ইজারাদার মো: জাফর ইকবাল এসব সড়কে যানবাহন থেকে ফি আদায় করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ইজারা নেওয়া বন্ধ করে দেন পৌর প্রশাসক ।
তবে অভিযোগ উঠেছে , ইজারাকৃত সংশ্লিষ্ট সড়কগুলো সওজ বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় পৌরসভার এ ধরনের ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার নেই।
এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে এ দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছেন সওজ, সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান ফারহান সুমেল। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ইজারার জন্য সওজ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি উল্লাপাড়া পৌরসভাকে।
দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিষয়টি ঘিরে জনমনে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এরই মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং পৌর প্রশাসক এটিএম আরিফ ( ইউএনও) ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সব ধরনের পার্কিং ফি আদায় বন্ধের ঘোষণা দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পুরো ইজারা প্রক্রিয়ার পেছনে পৌর সচিব আশরাফুল ইসলামের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা কাজ করেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত একটি স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে ,সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।